নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নতুন পাঁচশ শয্যার স্নায়ুবিজ্ঞান হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন | ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার | অক্টোবরে চালু হচ্ছে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
টুইট ডেস্ক: দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তি বাড়ালেই হবে না, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের সম্পর্ক তৈরি না হয়, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ও হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্নায়ুচিকিৎসার সক্ষমতা বাড়বে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্ট্রোক, মৃগী, পারকিনসন, স্মৃতিভ্রংশ ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগে দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
নতুন ৫০০ শয্যার ভবনে আধুনিক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র, অস্ত্রোপচার কক্ষ, উন্নত রোগনির্ণয় ব্যবস্থা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড থাকায় দেশের স্নায়ুচিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই ভবন রোগী ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিকতাও জরুরি
তারেক রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে একটি উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই।
রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান বাড়ায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসার প্রয়োজন কমাতে সরকার আধুনিক রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অক্টোবরে চালু হবে পাঁচ শিশু হাসপাতাল
শিশুস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কাজ চলছে।
আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থাভাবে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হবে না
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা শুধু মৌলিক অধিকার নয়, একটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। শহরের বিত্তবান মানুষের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসার জন্য কোনো নাগরিককে বিদেশে যেতে হবে না এবং অর্থের অভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।
জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরেই সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তবে এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত ভূমিকার ওপর।






