রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আজই মনোনয়নপত্র জমা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এরপর তাঁর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
আজই মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে আগামী ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।
একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার
গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
অলি আহমদও প্রার্থী
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর মনোনয়নপত্রও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত একক প্রার্থী বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার নজির ছিল। এবার দুই পক্ষের প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটের আয়োজন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল
জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সাংবিধানিক ও নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
একসঙ্গে তিন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পরিবর্তন আসবে।
তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দলের মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নাম হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
একইভাবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হলে সেখানে পরবর্তী সময়ে কে দলের প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ সময় দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং দলীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলের ভেতরে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়নকে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা এবং ২০ আগস্টের সংসদীয় ভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে। মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।






