রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়ন জমা

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন; প্রস্তাবক শফিকুর রহমান, সমর্থক আব্দুল্লাহ আল আমিন

টুইট ডেস্ক: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান। সমর্থক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

বিএনপি ছেড়ে জামায়াত জোটে অলি

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দুই দফায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০০৬ সালে দল ছাড়েন তিনি। একই বছরের ২৬ অক্টোবর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে এলডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে দুই দলের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য তৈরি হলে তারা আলাদা হয়ে যায়।

রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট এবং পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেয়।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার অনুপস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে।

‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিতে চাই না’

অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও দায়িত্ব হিসেবে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জোটের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বলেছিলেন, গণতন্ত্রের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না দিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান জানান দিতেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এ বিধান কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়ন জমার মধ্য দিয়ে এবার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হলো।