ভোটের সঙ্গে উন্নয়নকে শর্তযুক্ত করা যাবে না

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের ১১ সংসদ সদস্যের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, সেটি তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোটের সঙ্গে কোনো এলাকার উন্নয়নকে শর্তযুক্ত করা যাবে না। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন রংপুর বিভাগের জামায়াতে ইসলামীর ১১ সংসদ সদস্য।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রংপুর নগরের জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যরা বলেন, কোনো অঞ্চলের মানুষ ক্ষমতাসীন দলকে ভোট দিলেই উন্নয়ন হবে—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। জনগণের ভোট কোনো সরকারের প্রতি আনুগত্যের শর্ত হতে পারে না। একই সঙ্গে তাঁরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংসদ সদস্যরা বলেন, গত ৯ আগস্ট রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁরা বলেন, বিএনপি সরকারে এলে রংপুরের মানুষ জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিলে কীভাবে উন্নয়ন হবে—এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করায় উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে—এমন ধারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের রাজনৈতিক পছন্দের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, মির্জা ফখরুলের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের বক্তব্য সংবিধান স্বীকৃত বাক্‌স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতিও অসম্মানজনক।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যরা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার রংপুর অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানান তাঁরা।

তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা কোনো অঞ্চলের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, তা তাঁদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা যাবে না। সরকার জনগণের জন্য এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয়। তাই কোনো অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করলে তাঁদের উন্নয়ন ব্যাহত হবে—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়।

জামায়াতের সংসদ সদস্যরা আরও বলেন, রংপুরের উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রংপুরের মানুষ সমান অধিকার ও ন্যায্য উন্নয়নের দাবিদার। দলমত-নির্বিশেষে তাঁদের অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন সংকটও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের গোলাম রব্বানী, নীলফামারী-১ আসনের আবদুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল মুনতাকিম, গাইবান্ধা-১ আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের নজরুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের আব্দুল ওয়ারেছ উপস্থিত ছিলেন।