জুলাই জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জমিয়তের

টুইট ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

জমিয়ত নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তি কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য স্থাপন করা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয়। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের যেসব ভাস্কর্য রয়েছে, সেগুলো অপসারণ করতে হবে।

অধিবেশনে দলের নেতারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশের সব রাজনৈতিক দল একমত। তবে জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের কারণে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিভেদে না জড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে উপেক্ষা করা যাবে না। সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য সব পক্ষের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী ও মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীর সঞ্চালনায় সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, মহাসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।