রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে ৪০০ বোতল এসকাফ উদ্ধার, পালাল দুই কারবারি

ডিবির অভিযানে সড়কের পাশে বস্তা ফেলে প্রাইভেটকারে চম্পট, থানায় মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৪০০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য এসকাফ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুটি বস্তায় থাকা মাদকদ্রব্য ফেলে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পালিয়ে যায় দুই মাদক কারবারি।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোদাগাড়ী থানার জৈটাবটতলা গ্রামের মাসুদ রানার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে একটি অর্জুন গাছের নিচে পাকা সড়কের ওপর থেকে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক দুই ব্যক্তি হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মো. রুবেল হক (২৬) এবং একই উপজেলার কমলাকান্তি রাণীহাটি গ্রামের সুভান আলীর ছেলে মো. কামিরুল (২৫)।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী থানা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জৈটাবটলা এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের দরজা খুলে দুই ব্যক্তি সাদা রঙের দুটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে অবস্থান করছেন।
সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আশাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই দুই ব্যক্তি সাদা রঙের দুটি বস্তা সড়কের ওপর ফেলে রেখে রুপালি-সোনালি রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে নাচোল থানাগামী সড়কের দিকে পালিয়ে যান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা দুটি বস্তা তল্লাশি করে ৪০০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য এসকাফ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পলাতক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোদাগাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসকাফে নেশা, বাড়ছে আসক্তি ও মৃত্যুঝুঁকি
কাশির ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত কোডিনযুক্ত সিরাপের অপব্যবহার উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মাদকসেবীদের একটি অংশ এসব সিরাপ নেশার জন্য ব্যবহার করায় চিকিৎসার ওষুধটি পরিণত হচ্ছে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির উৎসে। অতিরিক্ত ও নিয়মিত সেবনে আসক্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এসকাফ নামে পরিচিত কিছু কাশির সিরাপে কোডিন ফসফেট থাকে। কোডিন একটি অপিওয়েডজাতীয় পদার্থ, যা চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু নেশার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
কোডিন শরীরে গিয়ে আংশিকভাবে মরফিনে রূপান্তরিত হয়। ফলে অতিরিক্ত সেবনে তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত অপব্যবহারে শরীরে নির্ভরশীলতা তৈরি হয় এবং একই ধরনের প্রভাব পেতে ক্রমে বেশি পরিমাণ গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ক্ষেত্রে। এতে অতিরিক্ত ঘুম, চেতনা হারানো এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বিপজ্জনকভাবে ধীর হয়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধসহ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দমন করে এমন অন্য কোনো পদার্থের সঙ্গে কোডিন গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব সিরাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ ব্যবহারকারীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য ওষুধ সেবন এবং নিরাপদ মাত্রা বিবেচনায় না নিয়েই সেবন করা হয়। অবৈধ বাজারে থাকা পণ্যের সংরক্ষণ ও উপাদানের মান নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কাশির সিরাপকে নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে কোডিনযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে কোডিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নেশার উদ্দেশ্যে এসকাফ বা কোডিনযুক্ত সিরাপ সেবন তাই কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। সাময়িক নেশার অনুভূতির আড়ালে এটি আসক্তি, শারীরিক ক্ষতি এবং অতিমাত্রায় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।






