৩৫ বছর পর আবারও ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

১৯৯১ সালের পর প্রথমবার সংসদে ভোটের লড়াই, নির্ধারক হতে পারে দলগুলোর আসনসংখ্যা

টুইট ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯১ সালে। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসন ছিল। এ ছাড়া বাকশাল ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পাঁচটি করে আসনসহ কয়েকটি ছোট দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

সেই নির্বাচনে ৬০ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরাও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

তবে ভোটের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন।

এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে। এরই মধ্যে তার পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

ফলে শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।

আসনসংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি

বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭টি, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ৮টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে তিনটি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন আটজন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। ফলে কোন দলের কতজন সংসদ সদস্য ভোট দিচ্ছেন এবং কোনো দল ভোটদানে বিরত থাকছে কি না-এসব বিষয় নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে সংসদের দলীয় আসনবিন্যাসই হয়ে উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।