সীমান্তে বিজিবির বড় অভিযান, ৬ লাখ ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তলসহ আটক ২

মিয়ানমার সীমান্তে টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির পৃথক অভিযান; নাফ নদীপথে ইয়াবা পাচারের সময় দুইজন আটক, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি

অসীম রায় (অশ্বিনী): মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার ও বান্দরবানের পৃথক এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় লাখ ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে নাইক্ষ্যংছড়ির অভিযানে অস্ত্র ও ইয়াবার চালান উদ্ধার হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবি জানিয়েছে, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নাফ নদীর তীরে সাড়ে তিন লাখ ইয়াবাসহ দুইজন আটক

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার ((১০ আগস্ট) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের উলুবনিয়া এলাকায় নাফ নদীর তীরে অভিযান চালায় ৬৪ বিজিবি। এ সময় নাফ নদীপথে ইয়াবার চালান পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কাটাখালী হাতিমারা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে নুর বশর (২২) এবং উলুবনিয়া গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে আবুল ফয়েজ (২৫)।

তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিজিবি জানতে পারে, নাফ নদীপথ ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে এসব মাদক দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

আটক দুইজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবার সঙ্গে বিদেশি পিস্তল-গুলি উদ্ধার

অন্যদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়েছে ৩৪ বিজিবি। সোমবার ভোরে সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধির তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, ওই অভিযানে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় এসবের কোনো মালিককে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

দুটি অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এর সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি।

অভিযান অব্যাহত থাকবে: বিজিবি

৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এবং ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পৃথক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার করা ইয়াবা, পিস্তল ও গুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।