রাজশাহী কারাগারে ‘সিআইডি রাসেলের’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-নির্যাতনের অভিযোগ

টাকা না দিলে খাবার বন্ধ ও মারধরের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস কারা কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের জিম্মি করে টাকা দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র সহকারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কারারক্ষীর নাম রাসেল, ব্যাচ নম্বর ১৮৭২। বন্দীদের কাছে তিনি ‘সিআইডি রাসেল’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।

ভুক্তভোগী বন্দী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, টাকা না দিলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, মারধর এবং অতিরিক্ত কঠিন কাজ করানোর ভয় দেখানো হয়। এ কারণে অনেক বন্দী পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কারাগারের মূল প্রতিপাদ্য ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগে এর বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকজন বন্দী গোপনে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে অভিযুক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এক বন্দীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে তাদের স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ওই কারারক্ষী নিয়মিত টাকা দাবি করেন। টাকা না পাঠালে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, মারধর এবং কঠিন কাজ করানোর ভয় দেখানো হয়। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার ধারদেনা করে টাকা পাঠাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের পর কারাগারের সাধারণ বন্দীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কারাগারে থাকা প্রত্যেক বন্দীর নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো বন্দীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় বা নির্যাতনের অভিযোগ সত্য হলে তা গুরুতর অনিয়ম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর নির্যাতন বা অর্থ দাবির কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত কারারক্ষী রাসেলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।