অক্টোবরে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

সরকারি তিন ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
টুইট ডেস্ক: নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। উপকারভোগীরা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাসিক ভাতা বিতরণ করা হবে। দেশের ৪৯৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালনায় তিন ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ৭২টি শাখা যুক্ত থাকবে।
বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানায়, সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, উচ্চমূল্যের সঞ্চয়পত্রধারী ও গাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন কারণে ৫ হাজার ৯৩৪টি পরিবারকে অযোগ্য হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকৃত উপকারভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই করা হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপকারভোগীর তালিকাও সংশোধন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পুনঃতদন্তের ব্যবস্থাও থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য নতুন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে ১০ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।






