মানবরচিত ব্যবস্থায় জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়: পীর চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য; গুম তদন্ত ও নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা।

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) বলেছেন, মানবরচিত রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; ইসলামই এ ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জনগণ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে, কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সেই ত্যাগ করা হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তে প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি ফিরে যাওয়ার কারণে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘুদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামই কার্যকর ও পরীক্ষিত ব্যবস্থা।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুম তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে গুমের ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ রাজধানীর নাগরিক সেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলেন, ঢাকা নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেখ ফজলুল করীম মারুফের সভাপতিত্বে এবং নগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, নগর উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমদসহ অন্যান্য নেতারা।