রাজশাহীতে কারারক্ষীর বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগ

চাকরির প্রলোভনে ফাঁকা চেক-স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগ, কারারক্ষীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাক্ষর করা খালি চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প নেওয়ার পর সেগুলোর অপব্যবহার করে হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকার ১১ টার দিকে রাজশাহীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি এলাকার বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী (নং-৩২৯৩৩) মো. জহুরুল ইসলাম চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে দুই সেট ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং ১২টি স্বাক্ষর করা খালি চেক নেন।
তিনি দাবি করেন, চাকরির আশায় বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে, নগদ অর্থ এবং স্বজনদের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে কয়েক লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাকে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও পরে তিনি বিষয়টি প্রতারণার অংশ হতে পারে বলে সন্দেহ করেন। এরপর তার কাছে আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বাক্ষর করা খালি চেক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি ও তার পরিবার মানসিক, সামাজিক এবং আর্থিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “চাকরির আশ্বাস দিয়ে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প অপব্যবহার করে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কারারক্ষী মো. জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। অভিযোগকারী আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।





