পাহাড়ের ‘সোনালি ঝাল’ ধানী মরিচ, কেজিতেই সোনার দামের ছোঁয়া

কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি, জুমচাষিদের আয়ের নতুন আশা
বান্দরবান প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ঢালে জন্মানো ছোট্ট একটি মরিচ এখন বাজারে দামের দিক থেকে যেন ‘সোনা’। আঙুলের ডগার মতো ছোট এই ধানী মরিচ বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কোথাও কোথাও ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তীব্র ঝাঁজ ও অনন্য স্বাদের কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জুমক্ষেতে উৎপাদিত ধানী মরিচ স্থানীয়ভাবে জুম মরিচ, ধন্য মরিচ বা চিকন মরিচ নামেও পরিচিত। সাধারণ মরিচের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি ঝাল হওয়ায় পাহাড়ি রান্নার পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও গৃহস্থালিতেও এর কদর বেড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফাল্গুন-চৈত্র মাসে জুমের জমি প্রস্তুতের পর বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে ধান, আদা, হলুদ ও তুলার সঙ্গে ধানী মরিচের বীজ বপন করা হয়। ধানের সঙ্গে চাষ হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘ধানী মরিচ’।
কম পানিতেই পাহাড়ের ঢালু জমিতে সহজে এ মরিচের চাষ করা যায়। দ্রুত ফলন হওয়ায় জুমের অন্য ফসলের আগেই বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। ফলে এটি পাহাড়ি কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নগদ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। অনেক জুমচাষি বছরে শুধু ধানী মরিচ বিক্রি করেই প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
বান্দরবানের বাঘমারা এলাকার কৃষক চাই প্রু মারমা বলেন, ক্ষেত থেকে ১০ কেজি ধানী মরিচ তুলে রাউজানের এক ব্যবসায়ীর কাছে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। শহরের বাজারে এর দাম আরও বেশি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানী মরিচ প্রথমে কাউখালী ও স্থানীয় বাজারে আসে। সেখান থেকে রাঙামাটি সদর, রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হয়।
তবে এ সম্ভাবনাময় ফসলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। তিন পার্বত্য জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরা কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে জুমচাষে ধানী মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ফসলের উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত চাষাবাদ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া গেলে ধানী মরিচ পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী ফসলকে টিকিয়ে রাখতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।






