ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৬ হাজার ছাড়াল

মাসখানেক পরও ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, পুনরুদ্ধারে ধীরগতির অভিযোগ
টুইট ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৬১ হাজার মানুষ।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ সোমবার টেলিগ্রাম বার্তায় হালনাগাদ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। নতুন এ পরিসংখ্যান প্রকাশের পর দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপে ছুটে যান। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজে সরকার ও সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় দ্রুততা দেখাতে পারেনি। সময়মতো সহায়তা না পাওয়ায় অনেক প্রাণহানি বেড়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস। অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পুরোপুরি পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই অর্থ কবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং বহাল থাকা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আহ্বান জানিয়েছে।






