জিয়ার হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা ভাঙনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
টুইট ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার একাধিক স্তরে শিথিলতার সুযোগ নিয়েই হত্যাকারীরা প্রায় বাধাহীনভাবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন দীর্ঘদিন প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি সেই প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ইউসুফ মো. মাহফুজুর রহমানের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির এডিসি ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক এবং মেজর মুজিবুর রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক সদস্যের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে গোলাগুলির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের কক্ষ থেকে বের হননি। এমনকি রাষ্ট্রপতির কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দরজা থাকা সত্ত্বেও এডিসি সেটি ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেননি। কমিশন এ আচরণকে দায়িত্ব ও পেশাগত কর্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার আগে রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে হামলার সময় রাষ্ট্রপতির কক্ষের বাইরে কার্যত কোনো নিরাপত্তা বলয় ছিল না। এছাড়া রাষ্ট্রপতির কক্ষ বরাদ্দের তালিকা সংগ্রহ এবং ঘটনার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হামলার সময় হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। ফলে তারা প্রায় বাধাহীনভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, রাষ্ট্রপতির মরদেহও দীর্ঘ সময় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে বিদ্রোহী সেনাদের একটি দল মরদেহ নিয়ে গিয়ে গোপনে দাফন করে। কমিশন এ ঘটনাকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নির্দেশে সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন তৎকালীন সেনাপ্রধানসহ ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে কমিশন মন্তব্য করে, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে সার্কিট হাউসে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও নিরাপত্তা সদস্য থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছিল।






