সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে ৫ বছর পর চালু দুই বিদ্যালয়

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে থানচি-রুমায় পাঠদান শুরু, স্বস্তি শতাধিক শিশুর
বান্দরবান প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবারও চালু হয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে থানচি ও রুমা উপজেলার জারুলছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরিফ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় পাঠদান শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান রিজিয়নের ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে বিদ্যালয় দুটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হতে পারছিল না। নতুন করে পাঠদান চালু হওয়ায় শতাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন আবার সচল হলো।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, থানচি উপজেলার সুংসাংপাড়া সেনা ক্যাম্পের অধীন থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবি এলাকায় কুকি-চিন সশস্ত্র তৎপরতার কারণে ২০২০ সাল থেকে বিদ্যালয় দুটি কার্যত বন্ধ ছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা ও পেন্সিল বিতরণ এবং বিদ্যালয়ে হোয়াইটবোর্ড সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এলাকায় পরিদর্শনে এসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জারুলছড়ি পাড়া, সাস্বত পাড়া, হাতিছড়া পাড়া, ক্রেসপাই পাড়া ও আরিফ পাড়ার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণ করেন। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল সাউন্ড বক্স, সোলার লাইট, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, টিন, পাইপ ও পানির ট্যাংক।
থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবির অধিনায়ক বলেন, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা জোরদার করতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় চালু হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা উপকরণ ও উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।







