তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরীর পানি বিপদসীমার ওপরে, দুই তীরে ভাঙন আতঙ্ক

টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি; সতর্ক অবস্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদীর পানি হঠাৎ বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুই তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় তারাগঞ্জের বারাতি পয়েন্টে যমুনেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ৬৮ মিটার, যেখানে ওই পয়েন্টের বিপদসীমা ৩৪ দশমিক ৫৩ মিটার।

স্থানীয়রা জানান, যমুনেশ্বরী নদীর পানি সাধারণত কখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে না। ফলে আকস্মিক এ পানি বৃদ্ধি তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক প্রবীণ বাসিন্দার দাবি, নদীকে এর আগে এমন অবস্থায় কখনো দেখা যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা থেকে উৎপত্তি হওয়া যমুনেশ্বরী নদী জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ হয়ে পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এটি একটি দেশীয় নদী হওয়ায় সাধারণত উজানের ঢল আসে না এবং বিপদসীমা অতিক্রমের ঘটনাও বিরল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডোমার, ডিমলাসহ উজানের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে এসে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রবীণ মোজাফফর হোসেন ও সমাজ উন্নয়নকর্মী হরলাল রায় বলেন, বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও যমুনেশ্বরী নদী বিপদসীমা অতিক্রম করেছে—এমন ঘটনা তাদের জানা নেই।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডালিয়ায় ২২ মিলিমিটার, কাউনিয়ায় ১৮ মিলিমিটার এবং রংপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণেই যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বৃষ্টিপাত কমে গেলে দ্রুতই পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় নেমে আসবে।