উত্তাল নয়া দিল্লি: শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘেরাও

তীব্র সংঘর্ষের মুখে এলাকা ছাড়লেন মোদী। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হলো সংসদ এলাকা, থমথমে পরিস্থিতিতে সরকারের জরুরি বৈঠক।
বিশ্ব ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি আজ এক অভূতপূর্ব ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী হলো। বকেয়া দাবি-দাওয়া এবং বিভিন্ন নীতিমালার প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে দেশটির সংসদ ভবন (পার্লামেন্ট) ঘেরাও করে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক রূপ নেয় যে, চরম নিরাপত্তার মধ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তড়িঘড়ি করে সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সংসদ চত্বরে আকস্মিক অবরোধ
আজ সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুরের দিকে বিশাল এক মিছিল নিরাপত্তার সব ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের মূল প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ‘দাবি মোদের একটাই’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর।
তড়িঘড়ি করে মোদীর প্রস্থান
প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্র মারফত জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ও মারমুখী ঘেরাও কর্মসূচির সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG) এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত তাকে একটি বিশেষ সুরক্ষিত কনভয়ের মাধ্যমে সংসদ ভবন এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। প্রধানমন্ত্রীর এভাবে তড়িঘড়ি করে প্রস্থান করার ঘটনা নয়া দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ
শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লির পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী লাঠিচার্জ, জলকামান এবং উপর্যুপরি টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। দফায় দফায় চলা এই তীব্র সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য:
“আমরা আমাদের অধিকারের দাবিতে এখানে এসেছি। যতদিন না সরকার আমাদের দাবি মেনে নিচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন থামবে না। পুলিশি নির্যাতন চালিয়ে আমাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।”
থমথমে নয়া দিল্লি
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সংসদ ভবন ও এর আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং মেট্রো স্টেশনগুলো সাময়িকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে।
পুরো নয়া দিল্লি জুড়ে এখন এক থমথমে ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।







