বন্যা নিয়ে সতর্কতা জারি: ৭২ ঘণ্টা বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার: মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কয়েকটি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু নদী বান্দরবানে বিপৎসীমার প্রায় ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

সিলেট বিভাগে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এ ছাড়া ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বন্যার কারণে চট্টগ্রাম নগরে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কয়েকটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বান্দরবানের বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন সড়ক ও সেতুর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করছে। স্থানীয় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়া অধিদপ্তর ও FFWC-এর সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উৎস: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর