যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-কোরিয়ার জ্বালানি জোট: এমওসি স্বাক্ষর

ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার ত্রিপাক্ষিক চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তির প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষর করেন।

চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটেগি তোশিমিৎসু এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন স্বাক্ষর করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এসএমআর স্থাপন দ্রুততর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে ছবি তুলছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার চো হিউন ও জাপানের তাকেশি ইওয়ায়া।

চুক্তির আওতায় তিন দেশ তাদের পারমাণবিক খাতে বিদ্যমান দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকি কমানো, বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রিপাক্ষিক এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো অংশীদার দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি সমাধান দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং অস্ত্র বিস্তাররোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ফার্স্ট’ (FIRST) কর্মসূচির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া এসএমআর প্রকল্প উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরির জন্য একটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে ইউরোপে বিএডব্লিউআরএক্স-৩০০ (BWRX-300) এসএমআর প্রযুক্তি বিস্তারে একটি শিল্প উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জিই ভার্নোভা, হিটাচি, স্যামসাং সি অ্যান্ড টি এবং এসজিই অংশ নিচ্ছে। এই উদ্যোগ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারে ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।