ভাঁজযোগ্য আইফোনে বড় বিনিয়োগ, ১ কোটি ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতিতে অ্যাপল

প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আল্ট্রা’র সম্ভাব্য মূল্য প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন ডলার; সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরদার প্রস্তুতির ইঙ্গিত।

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপল। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন আল্ট্রা’র জন্য প্রায় ১ কোটি ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতি নিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে নির্দেশনা দিয়েছে। এটি আগে আলোচিত ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট উৎপাদনের সম্ভাব্য হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনের লক্ষ্য বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ নিয়ে অ্যাপল বেশ আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো বছরজুড়ে অ্যাপলের মোট আইফোন উৎপাদন ২২ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূল্যের দিক থেকেও নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনটি অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন হতে পারে। বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার হতে পারে। বেশি ধারণক্ষমতার সংস্করণের দাম ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ডিভাইসটিতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ পর্দা এবং ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের পর্দা থাকতে পারে। এছাড়া এতে এ–২০ প্রসেসর, ১২ গিগাবাইট স্মৃতি, উন্নত আলোকচিত্র প্রযুক্তি এবং প্রচলিত মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার পরিবর্তে পাশের বোতামে আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি অ্যাপল।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন প্রো সিরিজের আইফোনের পাশাপাশি ভাঁজযোগ্য আইফোন আল্ট্রার ঘোষণা আসতে পারে। তবে বাজারে এর বিক্রি শুরুর সময় কিছুটা পরে নির্ধারণ করা হতে পারে।

অবশ্য অ্যাপল এখনো ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন পরিকল্পনা, মূল্য কিংবা উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে প্রকাশিত তথ্যগুলো মূলত সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক সূত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।