ব্রাজিলের সামনে ইতিহাসও, নরওয়েও বড় বাধা

চার দেখায় জয়হীন সেলেসাও; এবার হালান্ড–ওডেগার্ডদের সেরা প্রজন্মকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শুধু বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী নরওয়েকেই হারাতে হবে না, ভাঙতে হবে দীর্ঘদিনের এক অস্বস্তিকর পরিসংখ্যানও। ইউরোপের দলটির বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়ে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচে হেরেছে, বাকি দুটি হয়েছে ড্র।
তবে অতীতের এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় উদ্বেগ বর্তমান নরওয়ে দল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রতিভাবান দল নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে নর্ডিক দেশটি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর নকআউটেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে তারা।
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সর্বশেষ জয় আসে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। এরপর দুই দলের আর দেখা হয়নি। ফলে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে অক্ষুণ্ন রয়েছে নরওয়ের অজেয় রেকর্ড। যদিও এত দীর্ঘ ব্যবধানের কারণে অতীতের ফলাফল বর্তমান ম্যাচে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, তবু পরিসংখ্যানটি ব্রাজিলের জন্য অস্বস্তিকর বাস্তবতা হয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নরওয়ে ১৯৯০-এর দশকের দলটির চেয়েও অনেক বেশি পরিপূর্ণ। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একঝাঁক তারকাকে নিয়ে দলটি এখন আক্রমণ, গতি, কৌশল ও সৃজনশীলতায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সমৃদ্ধ।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তীব্র গরম দুই দলের জন্যই বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অতীতে ব্রাজিল–নরওয়ের অধিকাংশ ম্যাচ হয়েছে নরওয়ের আবহাওয়ায়, আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল তুলনামূলক শীতল পরিবেশে। ফলে এবার ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে আর্লিং হালান্ড। শেষ ১৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৬ গোল করা এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬ গোলের পর চলতি আসরেও পাঁচ গোল করে গোলদাতাদের শীর্ষ লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি।
শুধু হালান্ডই নন, অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, আলেকজান্ডার সোরলোথ, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববকে নিয়ে নরওয়ের আক্রমণভাগ এখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ঙ্কর ইউনিট। ড্রিবলিং, গতি ও আক্রমণ নির্মাণে এই প্রজন্মকে দেশটির ইতিহাসের সেরাদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের নরওয়ের মতো শুধু রক্ষণভিত্তিক ফুটবলে সীমাবদ্ধ নেই দলটি। একের বিপরীতে এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে হারানোর সক্ষমতা এবং দ্রুত আক্রমণে ওঠার দক্ষতা তাদের নতুন মাত্রা দিয়েছে। ফলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচজুড়েই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের সামনে চ্যালেঞ্জ কেবল একটি নেতিবাচক রেকর্ড ভাঙার নয়। তাদের মোকাবিলা করতে হবে এমন এক নরওয়েকে, যারা দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে বাছাইপর্বে আধিপত্য দেখিয়েছে, প্রথমবার নকআউট জয় পেয়েছে এবং ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে
প্রতিষ্ঠিত একদল তারকাকে নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই হতে যাচ্ছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও কঠিন দ্বৈরথ।






