এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেন বিধ্বস্ত, শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ওলিসের জোড়া অ্যাসিস্টে দাপুটে জয়, প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে লে ব্লুজ
ক্রীড়া ডেস্ক: কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোলে সুইডেনকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের দুটি অ্যাসিস্টে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে লে ব্লুজ।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক। স্টেডিয়ামের অধিকাংশই ছিলেন ফরাসি সমর্থক, যাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হননি অধিনায়ক এমবাপ্পে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স আধিপত্য বিস্তার করে। বল দখল, আক্রমণ এবং লক্ষ্যে শট—সব পরিসংখ্যানেই তারা ছিল অনেক এগিয়ে। সুইডেন রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেললেও ছন্দ খুঁজে পায়নি।
বিরতির ঠিক আগে ৪৫+১ মিনিটে কর্নার থেকে ওসমান ডেম্বেলে ও ওলিসের সমন্বয়ে বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এর আগে এমবাপ্পে ও ওলিসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় গোল পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয় ফ্রান্সকে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলে এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬-এ। তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমতায় পৌঁছেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮টি (মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে)।
কোচ ও দলীয় প্রস্তুতি
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ব্যক্তিগত কারণে (মায়ের শেষকৃত্য) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন না। শোক কাটিয়ে তিনি দলে যোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে এই বিশ্বকাপের পর তিনি কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দেশ্যমের অধীনে ২০১৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছিল।
পরবর্তী লড়াই
শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে প্যারাগুয়ে। আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়েকে হারিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। এবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ফরাসি শিবির।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে এমবাপ্পে, ওলিসে, ডেম্বেলে, বারকোলা ও ডিসায়ার দুয়ে দারুণ সমন্বয় দেখিয়েছেন। অন্যদিকে সুইডেন ভিক্টর গিয়োকেরেস, আলেক্সান্ডার ইসাক ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাকে নিয়ে আক্রমণ সাজালেও বলের জোগান কম থাকায় কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সুইডেন।
দাপুটে এই জয়ে ফ্রান্স শেষ ষোলোয় তাদের অভিযান অব্যাহত রাখল।






