মেসির গোলেও জর্ডানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় শতভাগ সাফল্য

একাধিক নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েও ৩-১ ব্যবধানে জয়; বদলি হিসেবে নেমে বিশ্বকাপে নিজের ১৯তম গোল করলেন লিওনেল মেসি।
টুইট প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল দাপটের সঙ্গে। নিয়মিত একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েও জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে শতভাগ সাফল্যে শেষ করেছে তারা।
গ্রুপে আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ায় স্কালোনি এদিন শুরুর একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা লাউতারো মার্টিনেজ ছাড়া নিয়মিত মুখদের প্রায় সবাইকে বিশ্রামে রাখা হয়। তবু আর্জেন্টিনার খেলার ছন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।
মাঝমাঠে ছোট ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ গড়া এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পরিচিত কৌশলেই খেলেছে আর্জেন্টিনা। সুযোগ পাওয়া ফুটবলাররা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তারাও মূল দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে প্রস্তুত।
ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন তরুণ মধ্যমাঠের খেলোয়াড় নিকো পাজ। সৃজনশীল পাস ও বুদ্ধিদীপ্ত বল নিয়ন্ত্রণে আক্রমণভাগকে প্রাণবন্ত রাখেন তিনি। অভিজ্ঞ লিয়ান্দ্রো পারেদেসও শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বারবার সামনে উঠে আক্রমণে গতি যোগ করেছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোল করেন জিওভান্নি লো সেলসো। পরে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্টিনেজ। জর্ডানের হয়ে মুসা আল-তামারি একটি গোল শোধ দিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কখনোই হারায়নি আর্জেন্টিনা।
শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। অল্প সময় খেলেই নিজের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৯-এ উন্নীত করেন। একই সঙ্গে চলতি আসরে ছয় গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানও ধরে রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই ২০২২ বিশ্বকাপ ও টানা দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে। তবে এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু কৌশলগত প্রস্তুতি নয়, বরং দলগত ঐক্য ও দেশের জন্য সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা।
জর্ডান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছিলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো সমর্থকেরা যেন জাতীয় দলের মধ্যে নিজেদের প্রতিফলন দেখতে পান। সেই দর্শনই যেন মাঠেও ফুটে উঠছে, যেখানে তারকা ও বেঞ্চ,দুই শক্তিই সমানভাবে দলের সাফল্যে অবদান রাখছে।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ চমক জাগানো কেপ ভার্দে। তবে বেঞ্চের গভীরতা, ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড ও দলগত ফুটবলের কারণে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে স্কালোনির দল।






