বিশ্বকাপের স্বপ্নে অবকাঠামোই বড় বাধা, রোগ চিহ্নিত করে সমাধান জানালেন জামাল

ভালো মাঠ, ফ্লাডলাইট, ক্লাব কাঠামো ও ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর; নতুন কোচ ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক।

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের আক্ষেপের মধ্যেই জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দেশের ফুটবলের প্রধান দুর্বলতাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে সবার আগে দেশের ফুটবল অবকাঠামো ও তৃণমূলের উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামাল বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় স্টেডিয়াম থাকলেও মানসম্মত মাঠের অভাব রয়েছে। ঢাকার বাইরে অধিকাংশ জেলায় ফ্লাডলাইট সুবিধাও নেই। তাঁর মতে, শুধু জেলা পর্যায় নয়, ক্লাব পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধাও আধুনিক করতে হবে। পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে।

ডেনমার্কে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জামাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি একটি সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়েছেন। বাংলাদেশেও সেই ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন জামাল। তিনি বলেন, ফুটবলারদের মাসিক ভাতা চালু হওয়াসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপ ইতিবাচক। ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির কাজ নিয়েও সন্তুষ্ট অধিনায়ক। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বকাপে খেলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাদার ফুটবলারের অভিজ্ঞতা থাকায় ডুলির জ্ঞান ও কাজের ধরন আগের অনেক কোচের তুলনায় ভিন্ন। দলের খেলোয়াড়রা তাঁর কাছ থেকে নতুন অনেক বিষয় শিখছেন বলেও জানান জামাল।

দেশের ঘরোয়া ফুটবল কাঠামো নিয়ে জামালের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের ফুটবল এখনও অতিরিক্তভাবে ঢাকা-কেন্দ্রিক। শীর্ষ লিগে প্রায় সব ক্লাবই রাজধানীনির্ভর হওয়ায় বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের দলগুলো পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে তিনি আগে থেকেই বিভাগভিত্তিক একটি সুপার লিগ চালুর প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।

ভালো মানের দেশীয় স্ট্রাইকারের সংকট প্রসঙ্গে জামাল বলেন, বহু বছর ধরেই একই প্রশ্ন শুনে আসছেন। তাঁর মতে, ঘরোয়া লিগে বিদেশি স্ট্রাইকারদের ওপর ক্লাবগুলোর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও দেশীয় ফরোয়ার্ড তৈরির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

বর্তমান জাতীয় দলে হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমের অন্তর্ভুক্তিতে দলের শক্তি বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে জামাল জানান, তিনি ব্রাজিলের সমর্থক এবং ব্রাজিলের নকআউট পর্বের ম্যাচ দেখতে হিউস্টনে যাবেন। তবে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাব্য দল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের সঙ্গেই তিনি কেপ ভার্দের নাম উচ্চারণ করেন। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরেও তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, একজন ফুটবলারের কাছে মাঠে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা সবসময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা।