গুগলের সতর্কবার্তায় পর পর দুইবার ভূমিকম্পে বাঁচল প্রাণ

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে আগাম বার্তা দিয়ে আলোচনায় অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক প্রযুক্তি।
টুইট প্রতিবেদক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
তবে এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে গুগলের আগাম ভূমিকম্প সতর্কতা প্রযুক্তি। মূল কম্পনের কয়েক সেকেন্ড আগে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর মোবাইলফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। ফলে তারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির মূল শক্তি লুকিয়ে আছে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা ‘অ্যাক্সিলেরোমিটার’ সেন্সরে।
ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমে সৃষ্টি হয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল কিন্তু দ্রুতগতির ‘প্রাথমিক তরঙ্গ’। ফোনের সেন্সর সেই অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাঠায় গুগলের সার্ভারে।
একই এলাকায় বিপুলসংখ্যক ফোন থেকে একই ধরনের সংকেত পৌঁছালে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এই অল্প সময়ই অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ‘দ্বিতীয়িক তরঙ্গ’ আঘাত হানার আগেই সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। প্রযুক্তিবিদদের ভাষ্য, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকারিতার অন্যতম সফল উদাহরণ।
বর্তমানে বিশ্বের দুই শত কোটিরও বেশি অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন এই নেটওয়ার্কের অংশ। ফলে এটি কার্যত বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।






