ট্রাম্পকে সিনেটের বার্তা: ইরান যুদ্ধে লাগবে কংগ্রেসের অনুমতি

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মঙ্গলবার বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- রয়টার্স

সামরিক ক্ষমতা সীমায় বিরল উদ্যোগ, রিপাবলিকানদের একাংশও গেলেন বিপরীতে

টুইট ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। ইরানে সামরিক অভিযান চালানো বা নতুন করে যুদ্ধ সম্প্রসারণের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সিনেটে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৫০টি, বিপক্ষে ৪৮টি। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রিত সিনেটে দলের চার সদস্য বিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন বিল কাসিডি, লিসা মুরকোস্কি, সুসান কলিন্স ও র‍্যান্ড পল। অন্যদিকে অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন।

এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ফলে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একই অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে প্রশাসনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তা ও ব্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ সতর্ক করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রেসিডেন্টের দরকষাকষির অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

যুদ্ধসংক্রান্ত প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আসন্ন হামলা প্রতিরোধে সীমিত সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপ অনুযায়ী, অল্পসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বদলে না দিলেও প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক আরও তীব্র করবে।