রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী, দুঃস্থ ও ভিক্ষুক পুনর্বাসনে মানবিক সহায়তা

পবায় প্রতিবন্ধী ও দুঃস্থদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ। হুইল চেয়ার, টিন, নগদ অর্থ ও ছাগল পেয়ে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখছেন সুবিধাভোগীরা।

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পবা উপজেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির উপকারভোগী, দুঃস্থ পরিবার ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

“আমি আর ভিক্ষা করতে চাই না। ছাগল পালন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন।

সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার, ২৫ জনকে ভিক্ষুক পুনর্বাসন সহায়তা, ৪২ জন দুঃস্থ ব্যক্তি ও ১০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে মোট ৭৮ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে ১০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন ও নগদ ছয় হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে একটি করে ছাগল, নগদ অর্থ এবং ছাগল পালনের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়। উপকরণের মধ্যে ছিল ঔষধ, মাল্টিভিটামিন পাউডার, প্লাস্টিকের গামলা, বেলচা, ঝাড়ু, ১৫ বর্গফুট ত্রিপাল ও এক কেজি ভূষি।

নগদ সহায়তা পাওয়া হড়গ্রাম ইউনিয়নের শিক্ষার্থী ইয়ামিন আসলাম সানি বলেন, “আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে পরিবারকে অনেক কষ্ট করতে হয়। আজকের এই সহায়তা আমার পড়াশোনার পথে নতুন সাহস জোগাবে।”

নওহাটা পৌর এলাকার কাদো বেওয়া বলেন, “বৃষ্টির সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। টিন ও টাকা পেয়ে এবার মাথার ওপর ভালো ছাউনি দিতে পারব।”

পুনর্বাসন সহায়তা পাওয়া জমেলা বলেন, “আমি আর ভিক্ষা করতে চাই না। একটি ছাগল, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পেয়ে নতুন করে বাঁচার আশা পেলাম।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার সবসময় অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে। মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্য শুধু অনুদান দেওয়া নয়, বরং সুবিধাভোগীদের আত্মনির্ভরশীল করে সম্মানজনক জীবনের পথে এগিয়ে নেওয়া।” পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি কমিয়ে কর্মমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মমুখী জীবনে যুক্ত করা সম্ভব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “আজকের এই সহায়তা সাময়িক অনুদান নয়, বরং সুবিধাভোগীদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ।”

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে জেলা প্রশাসকের পবা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন, পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।