ছিনতাই-সন্ত্রাসে অস্থির রাজধানী, বাড়ছে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পাঁচ মাসে ৭ হাজারের বেশি মামলা; অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

টুইট ডেস্ক: রাজধানীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা কমছে না। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৭ হাজার ১০৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৯৪টি, অপহরণ ৮০টি, দস্যুতা ১১০টি, ডাকাতি ১৭টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ২৫৭টি। বাকি মামলাগুলো অন্যান্য অপরাধের আওতায় নথিভুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। মোবাইল ফোন, অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতেও অনীহা দেখান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও ধানমন্ডি। এসব এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আদাবরে অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতির গভীরতাকে সামনে এনেছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আহত হন এবং পাল্টা ব্যবস্থাও নিতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বেকারত্ব, সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের পরামর্শ—উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সামাজিক পুনর্বাসন, শিক্ষার উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক নজরদারি একসঙ্গে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

নিরাপদ নগর গঠনে তাৎক্ষণিক অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও এখন সময়ের দাবি।