বর্ণভিত্তিক বৃত্তি বাতিলে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের রায়

উচ্চশিক্ষায় সমঅধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বন্ধ হচ্ছে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান কর্মসূচি:

টুইটনিউজ২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের Wisconsin Supreme Court সর্বসম্মত রায়ে বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি উচ্চশিক্ষা অনুদান কর্মসূচিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ‘মাইনরিটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট রিটেনশন গ্রান্ট’ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

রায়ে আদালত বলেছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি যদি নির্দিষ্ট বর্ণ বা জাতিগত গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকে, তবে তা সংবিধানের সমান সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচারপতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক বিবেচনাকে সীমিত করা হয়েছিল।

১৯৮৫ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় আফ্রিকান-আমেরিকান, হিস্পানিক, আদিবাসী এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বংশোদ্ভূত কিছু শিক্ষার্থী প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান পেতেন। আদালত মনে করেছে, এ ধরনের সুবিধা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে না এবং বর্ণকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে।

মামলাটি দায়ের করেছিল রক্ষণশীল আইনভিত্তিক সংগঠন Wisconsin Institute for Law & Liberty। সংগঠনটির দাবি ছিল, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কর্মসূচিটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানবিরোধী। আদালত শেষ পর্যন্ত সেই যুক্তির পক্ষে অবস্থান নেয়।

তবে রায়ের সঙ্গে একমত হলেও কয়েকজন বিচারপতি পৃথক মতামতে উইসকনসিনে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বর্ণগত বৈষম্যের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, অতীতের বৈষম্যের প্রভাব এখনো অনেক সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্যমান থাকলেও বর্তমান সাংবিধানিক ব্যাখ্যার কারণে আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ পায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু উইসকনসিনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও বর্ণভিত্তিক বৃত্তি, অনুদান ও বৈচিত্র্যভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের বিরুদ্ধে অনুরূপ আইনি চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষানীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে বর্ণের পরিবর্তে পারিবারিক আয়, ভৌগোলিক বৈষম্য কিংবা শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের রায় ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও কঠিন করে তুলতে পারে।