কলেজ ক্রীড়ায় নতুন নিয়মের পথে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট

এনসিএএ চুক্তি ও খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা নিয়ন্ত্রণে দ্বিদলীয় বিল, ক্রীড়া অঙ্গনে শুরু নতুন বিতর্ক
টুইটনিউজ২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও বিতর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সিনেট। খেলোয়াড়দের নাম, পরিচিতি ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডমূল্য থেকে আয় (এনআইএল) এবং বিভিন্ন আর্থিক চুক্তিকে নিয়মের আওতায় আনতে প্রস্তাবিত ‘প্রটেক্ট কলেজ স্পোর্টস অ্যাক্ট’ এখন আইন হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
দ্বিদলীয় সমর্থনে উত্থাপিত এই বিল সম্প্রতি সিনেটের বাণিজ্য কমিটিতে ১৯-৯ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে বিলটি এখন পূর্ণাঙ্গ সিনেট অধিবেশনে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়ায় খেলোয়াড়রা নিজেদের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারেন। তবে এসব চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতার ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন বিলটি সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
বিলের খসড়ায় খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা ও রাজস্ব বণ্টনের বিষয়ে নতুন নীতিমালা, চিকিৎসা ব্যয়ের নিশ্চয়তা এবং স্থানান্তর ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুম চলাকালে কোচদের দল পরিবর্তনের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ক্রীড়াবিদ সংগঠনগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এনএফএল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং এনবিএ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, বিলটি কলেজ ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সবাই একমত নন। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কলেজ ক্রীড়া সম্মেলন এসইসি ও বিগ টেনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিলের কিছু ধারা ভবিষ্যতে আরও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোর কয়েকটি অংশ সংশোধন না করলে নতুন মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কলেজ ক্রীড়ায় অর্থনৈতিক বিপ্লবের পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। তবে আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে বিলটিকে এখনও সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থন অর্জন করতে হবে।
আক্রীড়া প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়, খেলোয়াড় এবং নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি এখন সিনেটের পরবর্তী ভোটাভুটির দিকে। সেই ফলই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ কাঠামো কোন পথে এগোবে।






