চশমাতেই স্থানিক কম্পিউটিং

৭০ ডিগ্রি দৃশ্যক্ষেত্র, নতুন প্রসেসর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এলো এক্সরিয়েল অরা
প্রযুক্তি ডেস্ক | TweetNews24.com
স্থানিক কম্পিউটিং প্রযুক্তির বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান XREAL। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে ‘এক্সরিয়েল অরা’ নামের নতুন প্রজন্মের স্মার্ট চশমা, যা অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন রিয়েলিটি এলিট প্রসেসরের সমন্বয়ে তৈরি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি স্মার্ট চশমা নয়; বরং বাস্তব ও ডিজিটাল জগতকে একত্রিত করার লক্ষ্যে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ স্থানিক কম্পিউটিং ডিভাইস।
এক্সরিয়েল অরার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ৭০ ডিগ্রি দৃশ্যক্ষেত্র। নির্মাতাদের দাবি, বর্তমানে বাজারে থাকা অধিকাংশ বর্ধিত বাস্তবতা (এআর) চশমার তুলনায় এটি অনেক বিস্তৃত দৃশ্য প্রদান করতে সক্ষম। ফলে ব্যবহারকারীরা বাস্তব পরিবেশের ওপর আরও বড় আকারে ডিজিটাল তথ্য ও ত্রিমাত্রিক উপাদান দেখতে পারবে।
ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের নতুন ‘স্ন্যাপড্রাগন রিয়েলিটি এলিট’ প্ল্যাটফর্ম। এই প্রসেসর পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত গ্রাফিক্স, কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গণনাশক্তি সরবরাহ করে। একই সঙ্গে এটি কম শক্তি খরচ ও উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও দেয়। ও
চশমাটির ওজন ৯৫ গ্রামেরও কম রাখা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে। এতে রয়েছে হাতের অঙ্গভঙ্গি শনাক্তকরণ, ছয় মাত্রিক গতিবিধি অনুসরণ ব্যবস্থা এবং বাইরের পরিবেশ শনাক্তকারী সেন্সর। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের আরও স্বাভাবিক ও বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতা দিতে সহায়তা করবে।
এক্সরিয়েল তাদের নিজস্ব এক্স–ওয়ান–এস সহ-প্রসেসরও যুক্ত করেছে, যা চশমার সেন্সর ও প্রদর্শন ব্যবস্থার তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করে। অন্যদিকে মূল গণনাকাজ পরিচালনা করে পৃথক কম্পিউটিং ইউনিটে থাকা স্ন্যাপড্রাগন রিয়েলিটি এলিট চিপ। এই দ্বৈত স্থাপত্যের ফলে কর্মক্ষমতা ও ব্যবহারযোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড এক্সআরভিত্তিক এই ডিভাইসে গুগলের জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সমন্বয়ও রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা কণ্ঠ নির্দেশনা, বুদ্ধিমান সহকারী, তাত্ক্ষণিক তথ্য অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন এক্সআরভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে শতাধিক এক্সআর-উপযোগী অ্যাপ্লিকেশন এ প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, স্মার্টফোন-পরবর্তী যুগে পরিধানযোগ্য কম্পিউটিং যন্ত্রের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এক্সরিয়েল অরা সেই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বর্ধিত বাস্তবতা এবং স্থানিক কম্পিউটিং একসঙ্গে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের শরৎ মৌসুমে এক্সরিয়েল অরা বাজারে আসবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে আগাম সংরক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।






