কিউবার অর্থনীতিতে ঐতিহাসিক মোড়:

বেসরকারি ব্যাংক ও রিয়েল এস্টেট খাতে উন্মুক্ত হচ্ছে দরজা
টুইট প্রতিবেদক:হাভান, ২০ জুন: সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য পরিচিত কিউবা ১৭৬টি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সংস্কার অনুমোদন করেছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে আরও বাজারমুখী ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সংস্কারের আওতায় বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হবে।
কিউবার জাতীয় পরিষদ ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অনুমোদিত এই পদক্ষেপকে ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক রূপান্তর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সরকার বলছে, সংস্কারগুলোর উদ্দেশ্য সমাজতন্ত্র ত্যাগ করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়ানো।
কী থাকছে নতুন সংস্কারে?
নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী
বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।
রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে বেসরকারি ও বিদেশি অংশগ্রহণ বাড়বে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারভিত্তিক বাণিজ্যিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হতে পারবে।
বিদেশে বসবাসরত কিউবানদের বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
কৃষি, পর্যটন, বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা চালু করা হবে।
সংকটের প্রেক্ষাপটে সংস্কার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবা তীব্র জ্বালানি সংকট, খাদ্য ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার চীন ও ভিয়েতনামের বাজারমুখী সমাজতান্ত্রিক মডেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
জনগণের প্রতিক্রিয়া মিশ্র
সংস্কার ঘোষণার পর সাধারণ কিউবানদের মধ্যে আশাবাদ ও সংশয়,দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বাস্তবায়নে ধীরগতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকলে প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংস্কারগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কিউবার অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আর্থিক খাতের আধুনিকীকরণ এবং নিষেধাজ্ঞাজনিত বাধা মোকাবিলা না করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। তবুও ১৭৬টি সংস্কারকে কিউবার অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
TweetNews24.com বিশ্লেষণ:
কিউবার এই পদক্ষেপ শুধু দেশটির অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল একটি অর্থনীতির নতুন বাস্তবতার স্বীকৃতি। সংস্কারগুলোর সফল বাস্তবায়ন হলে কিউবা ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রিত বাজারভিত্তিক সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে পারে।






