নিরাপত্তা বিতর্কে মমতার বিরুদ্ধে দিলীপের তোপ

নিরাপত্তা বিতর্ক ঘিরে তৃণমূল নেত্রীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ বিজেপি নেতার।

টুইট ডেস্ক রাপত্তা বিতর্ক ঘিমরে তৃণমূল নেত্রীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ বিজেপি নেতার

কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা । কালীঘাটের বাসভবনে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষীদের প্রত্যাহার এবং নতুন নিরাপত্তা সদস্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে তিনি তৃণমূল নেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সংবিধান ও সরকার না

মানলে এ দেশে কেন থাকবেন, বাংলাদেশে চলে যান।’
বুধবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা দলনেতা অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায়

নিয়োজিত দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নতুন সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। তার দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, সরকার যাদের দায়িত্ব দেয়, তাদের নিয়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা কেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তা সদস্য বেছে নিতে চাইবেন।
এ সময় অতীতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দীর্ঘ সময় একই কর্মকর্তাদের বহাল রেখেছিলেন। বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যেহেতু দায়িত্বে রয়েছে, তাই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।

এরপরই সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘তিনি সংবিধান মানবেন না, সরকার মানবেন না। এ দেশে আছেন কেন? চলে যান বাংলাদেশে।’

শুধু নিরাপত্তা ইস্যুতেই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং রাজ্যের হকার সমস্যার বিষয়েও তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপির এ নেতা। তিনি দাবি করেন, অবৈধভাবে হকার বসানোর পেছনে শাসকদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে এবং এ সমস্যার দায় তৃণমূল কংগ্রেস এড়াতে পারে না।রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।

সাবেক মন্ত্রী ও কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় বেশি সাহস নিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে আনছেন।

দিলীপ ঘোষের এ মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ ও রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।