শিকড়ের টানে ল্যাক্রোঁর ব্যতিক্রমী উদ্‌যাপন

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আনন্দে নিজ গ্রামের সব বাসিন্দাকে পিৎজা খাওয়ানোর উদ্যোগ ফরাসি ডিফেন্ডারের।

টুইট ডেস্ক: ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোঁ। শৈশবের স্মৃতি ও জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রতিটি ম্যাচের দিন নিজের গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য পিৎজার আয়োজন করবেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ছোট্ট গ্রাম আজাতে কেটেছে ল্যাক্রোঁর শৈশবের বড় একটি অংশ। দাদা-দাদির স্নেহে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার খুব অল্প বয়সেই পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেন। তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্তির খবর পাওয়ার পর স্থানীয় মেয়রকে আগেই নিজের পরিকল্পনার কথা জানান ল্যাক্রোঁ। তার উদ্যোগ অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রতিটি ম্যাচের দিনে গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য পিৎজার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সবাই একসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

ল্যাক্রোঁর এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত আজাতের মানুষও বিশেষ আয়োজন করেছে। গ্রামের টাউন হলে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে বসে পিৎজা খেতে খেতে জাতীয় দলের খেলা উপভোগ করবেন তারা। নিজেদের গ্রামের একজন ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন,এটাই তাদের সবচেয়ে বড় গর্ব।

ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের পথ পেরিয়ে ল্যাক্রোঁ আজ জাতীয় দলের জার্সিতে। ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার পর ২০২০ সালে জার্মান ক্লাব উলফসবুর্গে যোগ দেন তিনি। পরে ইংল্যান্ডের ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতে শুরু করেন। সেখানকার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এবার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও দলের জয়ে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন ল্যাক্রোঁ। আর তার গ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষায়,কবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফ্রান্সের জার্সিতে খেলতে নামবেন তাদের প্রিয় সন্তান।