উপসর্গ দেখেও ধরা পড়ে না রোগ

কার্যকরী  স্নায়বিক ব্যাধি শনাক্তে ঘাটতি, দীর্ঘ হচ্ছে রোগীর ভোগান্তি

টুইটনিউজ২৪ ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ এমন কিছু স্নায়বিক উপসর্গে ভুগছেন, যেগুলো দেখতে অনেকটা স্ট্রোক, মৃগী, পক্ষাঘাত বা চলাচলজনিত রোগের মতো হলেও পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট কোনো গাঠনিক স্নায়ুক্ষতি ধরা পড়ে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় কার্যকরী স্নায়বিক ব্যাধি। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চিকিৎসকেরা অনেক ক্ষেত্রেই রোগটির লক্ষণ সময়মতো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকরী স্নায়বিক ব্যাধি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দেয়, কিন্তু তা কোনো দৃশ্যমান গাঠনিক ক্ষতির কারণে নয়। রোগীরা হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক নড়াচড়া, খিঁচুনির মতো আক্রমণ, ভারসাম্যহীনতা কিংবা সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের মতো উপসর্গে আক্রান্ত হতে পারেন।

 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে এ রোগকে অনেক সময় ‘বর্জনের মাধ্যমে নির্ণীত রোগ’ হিসেবে দেখা হতো। অর্থাৎ অন্যান্য সব সম্ভাব্য রোগ বাদ দেওয়ার পর এ রোগের কথা বিবেচনা করা হতো। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার ইতিবাচক লক্ষণ দেখে এখন সরাসরি কার্যকরী স্নায়বিক ব্যাধি শনাক্ত করা সম্ভব। তবুও অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, রোগ নির্ণয়ে বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং রোগটি সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা। ফলে অনেক রোগী বছরের পর বছর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও সঠিক চিকিৎসা পান না। এতে মানসিক চাপ, শারীরিক অক্ষমতা এবং চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, কার্যকরী স্নায়বিক ব্যাধির উপসর্গ বাস্তব এবং রোগীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব সৃষ্টি করেন না। অতীতে এ ধরনের রোগীদের বিষয়ে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে এ রোগকে মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালির একটি স্বীকৃত জটিল সমস্যা হিসেবে দেখা হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে রোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান, পুনর্বাসন চিকিৎসা, শারীরিক অনুশীলন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্কও চিকিৎসার সাফল্যের অন্যতম শর্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের অভিমত, কার্যকরী স্নায়বিক ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হবে। এতে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমবে এবং তারা সময়মতো কার্যকর চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।