তাহেরপুর হাটে খাজনা আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর হাটে খাজনা আদায়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্ধারিত বা তারও বেশি হারে খাজনা আদায় করা হলেও রশিদে উল্লেখ করা হচ্ছে ভিন্ন অঙ্ক। কোথাও ১০ টাকা, কোথাও ২০ টাকা লেখা থাকলেও বাস্তবে আদায়কৃত অর্থের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হাটে আগত বিক্রেতাদের দাবি, নতুন ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে খাজনা নেওয়ার পর রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম টাকার রশিদ দিয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহেরপুর হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বাগাতির নামে ব্যবহৃত খাজনা রশিদে কোথাও ১০ টাকা, কোথাও ২০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন একাধিক বিক্রেতা।

গত শুক্রবার (৫ জুন) হাটে সুপারি বিক্রি করতে আসেন শহিদুল ইসলাম নামের এক বিক্রেতা। তিনি জানান, ৮০০টি সুপারি বিক্রির পর তার কাছ থেকে প্রতি ১০০ সুপারিতে ২০ টাকা হারে খাজনা নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তাকে ১০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে নতুন করে ২০ টাকার খাজনা উল্লেখ করে আরেকটি রশিদ দেওয়া হয়।

আরেক পান বিক্রেতা সাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এক পুয়া পান বিক্রি করে যদি ২ হাজার ৯০ টাকা পাই, তাহলে শেষ পর্যন্ত ৯০ টাকা আর হাতে থাকে না। খাজনার নামে কেটে নেওয়া হয়। অনেক সময় কোনো রশিদও দেওয়া হয় না। আবার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো খাজনাই নেওয়া হয় না।”

হাটে খাজনা আদায়ের এ ধরনের বৈষম্য ও অসঙ্গতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাজনা আদায় হলে রশিদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হবে না কেন? আর যদি রশিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে?

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাহেরপুর হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বাগাতির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন কিংবা তাহেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকেও খাজনা আদায়ের নির্ধারিত হার, তদারকি ব্যবস্থা বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইজারাদারপক্ষের খাজনা আদায়কারীরা অবশ্য দাবি করেছেন, “খাজনা যত টাকাই হোক, রশিদে ১০ টাকা অথবা ২০ টাকা লেখা হয়। এটাই নিয়ম। কারও অভিযোগ থাকলে হাট অফিসে জানাতে বলা হয়।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তাহেরপুর হাটে খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদ জালিয়াতি কিংবা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—হাটে যদি প্রকৃত আদায়ের সঙ্গে রশিদের মিল না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? আর প্রশাসনের টনক নড়বে কবে?