দূরত্বেও মাতৃত্বের দায়

বিচ্ছেদের পর সন্তানদের পড়াশোনা, পরীক্ষা ও গ্র্যাজুয়েশনের ব্যস্ততা সামলানোর অভিজ্ঞতা এক মায়ের।

টুইট প্রতিবেদক: সন্তানদের সঙ্গে সময় ভাগাভাগি করে কাটাতে হয়,বিচ্ছেদের পর এমন বাস্তবতায় অনেক মা-বাবাকেই মানিয়ে নিতে হয়। কিন্তু স্কুলজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, পরীক্ষা, গ্র্যাজুয়েশন ও বছরের শেষের নানা আয়োজন যখন নিজের দায়িত্বের সপ্তাহে না পড়ে, তখন সেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের এক মায়ের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ঠিক এমনই এক বাস্তব চিত্র।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত নিবন্ধে তিনি জানান, সাবেক স্বামীর সঙ্গে সন্তানদের সময় ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগ করে নেওয়ার কারণে স্কুলের প্রথম ও শেষ সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে তিনি সবসময় সন্তানদের পাশে থাকতে পারেননি। এ বছর তার মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছেলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্ত করেছে। ফলে বছরের শেষ সপ্তাহজুড়ে ছিল অনুষ্ঠান, পরীক্ষা, সমাপনী আয়োজন ও গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে ব্যাপক ব্যস্ততা।

আগেভাগেই নিয়েছিলেন প্রস্তুতি

সন্তানদের প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা, বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর, স্কুলসংক্রান্ত কাজ ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা,সবকিছু তিনি আগেই সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সন্তানদের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সহায়তা করার জন্য নিজের কর্মসূচিও পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, সন্তানদের যেন কোনো কিছুতে ঘাটতি না থাকে, সেজন্য দূরে থেকেও প্রতিটি বিষয় খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছেন। মেয়ের স্কুলের অনুষ্ঠানসূচি থেকে শুরু করে ছেলের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি পর্যন্ত তিনি বারবার পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং ফোনে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো।

দূর থেকে মানসিক সমর্থন

ছেলের প্রতিদিনের পরীক্ষা এবং মেয়ের একের পর এক স্কুল কার্যক্রমের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন তিনি। কখন কোন পোশাক পরতে হবে, কোন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে কিংবা পরীক্ষার আগে সাহস জোগানো,সবকিছুই করেছেন দূর থেকে।

গ্র্যাজুয়েশনের জন্য মেয়ের পছন্দের সাদা পোশাক কেনার সময়ই তার মনে হয়েছিল, অনুষ্ঠানের দিন মেয়েকে নিজ হাতে প্রস্তুত করে দিতে পারবেন না। এমনকি নিজের প্রিয় মুক্তার হার ও কানের দুলও মেয়েকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। তবে অনুষ্ঠানের দিন মেয়ে সেগুলো পরেনি। বিষয়টি তাকে আবেগপ্রবণ করলেও তিনি সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

শেষ পর্যন্ত গর্বই বড় হয়ে উঠল

গ্র্যাজুয়েশনের দিন ছেলেকে নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে দেখে তার মনে ফিরে আসে শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি। অন্যদিকে মেয়েকেও আত্মবিশ্বাসী ও হাসিখুশি দেখে তিনি বুঝতে পারেন, সব কষ্ট ও দূরত্বের মধ্যেও সন্তানদের জন্য করা প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছেদের পর যৌথ অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েশন বা শিক্ষা-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলো প্রায়ই আবেগ ও বাস্তবতার জটিলতা তৈরি করে। তবে আগাম পরিকল্পনা, স্পষ্ট যোগাযোগ এবং সন্তানকেন্দ্রিক মানসিকতা এ ধরনের পরিস্থিতি সহজ করতে পারে।

সন্তানদের জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ওই মা বলেন, দায়িত্বের সপ্তাহ হোক বা না হোক, তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার চেষ্টা তিনি সবসময় চালিয়ে যাবেন।