মোদিকে চ্যালেঞ্জ, রাজপথে নামছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক; তরুণদের ক্ষোভকে পুঁজি করে নতুন আন্দোলনের উত্থান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভজি ডিপ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রে প্রধান পদত্যাগ দাবিতে দেশে ফিরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করা সিজেপি ভারতের তরুণ সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির সংকট এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনিয়মের মতো ইস্যুতে ক্ষুব্ধ তরুণদের বড় অংশ সংগঠনটির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে তিনি ভারতে ফিরছেন। একইসঙ্গে তিনি দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

দিপকের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আন্দোলন থেকে রাজপথে

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির দীর্ঘ শাসনামলে এটি তরুণদের অন্যতম বড় অনলাইনভিত্তিক ভিন্নমত আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। সেই অসন্তোষকেই সংগঠিত করার চেষ্টা করছে সিজেপি।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটির উৎপত্তিও বিতর্কিত একটি মন্তব্যকে ঘিরে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্তের একটি মন্তব্য থেকে এ নামের প্রচলন ঘটে। তিনি কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার বক্তব্যটি ভুয়া ও জাল সনদধারীদের উদ্দেশে ছিল, তরুণদের অপমানের জন্য নয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তার পরিবার ও বন্ধুরা আশঙ্কা করছেন। তবে তিনি ভয়কে উপেক্ষা করেই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে ভারত সরকার সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম পেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন দিপকে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান ও ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়ানোর চেষ্টা করছে সিজেপি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

তরুণদের ক্ষোভের কেন্দ্রে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডাক বিভাগের পরিবর্তে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মাধ্যমে পরিবহনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংকটও তরুণদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত বছর ৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব হারের তিন গুণেরও বেশি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণদের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ যদি সংগঠিত রাজনৈতিক রূপ পায়, তাহলে তা আগামী দিনে মোদি সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।