রামিসা হত্যা মামলায় বোনের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোরে’ নেওয়ার নির্দেশ

বাবা-মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, আদালতে হাজির করা হয় দুই আসামিকে
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিহত শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার তৃতীয় সাক্ষী এবং রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তার সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোরে’ বা ক্যামেরার মাধ্যমে গ্রহণের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন, কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় আসামি সোহেল রানা বাইরে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ জানান, গণমাধ্যমের সামনে যেন আসামি কথা বলতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে আদালত পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরপর মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন। অসুস্থতার কারণে আদালত তাকে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেন।
সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে বনানীর কাকলীতে নিজের কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। এসে দেখেন বাসার সামনে লোকজন জড়ো হয়ে আছে। পরে স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন, রামিসা বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে আটকা পড়েছে।
তিনি আরও জানান, নিচ থেকে হাতুড়ি এনে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে কমন রুমে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখতে পান। পরে স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে খণ্ডিত মাথা দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি দাবি করেন, আসামি সোহেল রানাকে এর আগে কখনও দেখেননি।
পরে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে রান্নার কাজ করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা পাশের বাসায় যাওয়ার সময় ছোট মেয়ে রামিসাও যেতে চাইলে তাকে বারণ করেন। কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে শিশুর চিৎকার শুনতে পান।
তিনি জানান, বড় মেয়ে ফিরে এসে জানায় রামিসা সেখানে যায়নি। পরে চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনতলার একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং স্বামীকে খবর দেন। পরে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন, স্বপ্না আক্তারকে দরজা খুলতে বললেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে জানতে পারেন, রুবেল নামে একজন গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে।
এরপর মামলার তৃতীয় সাক্ষী রাইসা আক্তারের বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তার সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোরে’ নেওয়ার আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।






