সেনা নিয়োগে ছাড় বাতিলের আশঙ্কা

বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে ইসরাইলজুড়ে কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিক্ষোভ।

টুইট ডেস্ক: ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় কট্টরপন্থি ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এতে জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ গুরুত্বপূর্ণ নগরীগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সামরিক সেবাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী দাবি করে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেক প্ল্যাকার্ডে জায়নবাদবিরোধী বক্তব্যও দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত তরুণদের সেনাবাহিনীতে বাধ্য করা হলে তাদের জীবনধারা ও ধর্মীয় অনুশীলন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইসরাইলে দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থি ইহুদি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে বিশেষ অব্যাহতি ভোগ করে আসছেন। এই সুবিধার ফলে তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে পারেন। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেনাসদস্যের ঘাটতির কারণে সরকার ও সামরিক বাহিনী ওই অব্যাহতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা, লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট ঘিরে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ইসরাইলের সেনাবাহিনী জনবল সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি আগে অব্যাহতি পাওয়া গোষ্ঠীগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার চাপ বাড়ছে।

বর্তমান আইনে অধিকাংশ ইহুদি পুরুষকে প্রায় তিন বছর এবং নারীদের দুই বছর বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরবর্তীকালে অনেককে সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে কট্টরপন্থি ইহুদিদের জন্য প্রচলিত বিশেষ সুবিধা বাতিল হলে তা দেশটির রাজনীতি ও সমাজে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। একদিকে নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সেনাবাহিনীর জনবল বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন,এই দুইয়ের সংঘাত এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল-জাজিরা