মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানার ভেতর থেকেই বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ

ওসির বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ, পাল্টা ব্যাখ্যায় পুলিশ
টুইট ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ তুলে থানার ভেতর থেকেই ফেসবুক লাইভ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম।
রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নবীনগর থানার ভেতরে বসে এজাহার হাতে নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে আসেন। সেখানে তিনি নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ তোলেন।
লাইভে নাজমুল করিম বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি থানায় এসে অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরও তার এজাহার গ্রহণ করা হয়নি। তার দাবি, ওসি ও ওসি তদন্ত তাকে থানায় রেখেই চলে যান।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও যদি এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী?” একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে জানতে চান, কার ইন্ধনে এমন আচরণ করা হচ্ছে।
ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাজমুল করিম বলেন, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ওই পদে দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার অভিযোগ, জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে না থেকেও সভাপতি পদে অনুমোদন নিতে চাপ প্রয়োগ করেন।
নাজমুল করিমের ভাষ্য, তিনি ওয়ার্ড কমিটির মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন আনতে বললেও মাহবুব রহমান তা করতে পারেননি। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাতে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড়া এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপহরণেরও চেষ্টা করেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় যান তিনি।
অন্যদিকে অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী। রাত আড়াইটার দিকে তিনি বলেন, একটি অপমৃত্যুর ঘটনায় থানার বাইরে থাকায় অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। তবে থানায় ওসি তদন্ত ও ডিউটি অফিসার উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগ জমা দিতে কোনো বাধা ছিল না।
ওসি আরও বলেন, “আমি তাকে একবারও বলিনি যে মামলা নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ দিলে অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে থানায় বসে করা বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।






