১০ কোটি টাকা নয়, সবই প্রকল্প বরাদ্দ; ব্যাখ্যায় হাসনাত আবদুল্লাহ

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি এনসিপি নেতার

টুইট ডেস্ক: কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, দেবীদ্বারের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া অর্থকে ভুলভাবে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় ৪৩ মিনিট ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

তিনি দাবি করেন, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসক এমনভাবে বক্তব্য দিয়েছেন যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নিয়েছেন, অথচ বাস্তবে দেবীদ্বারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দেবীদ্বার আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, “এখানে লুকানোর কিছু নেই। সব তথ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। যে কেউ অনলাইনে গিয়ে দেখতে পারবেন।”

১০ কোটি টাকা বরাদ্দের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ ও রাজস্ব নিজস্ব খাত মিলিয়ে মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্প দেবীদ্বারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, ১৪৮টি খাতে এসব প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এখনো কোনো প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, গত দুই দিন ধরে তাকে নিয়ে “মিডিয়া ট্রায়াল” চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “টাকা আমরা নিয়ে গেছি— এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ সব তথ্য প্রকাশ্য রয়েছে।”

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের এ মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, যেকোনো ব্যক্তি ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করলেই প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, খাত ও ব্যয়ের তথ্য দেখতে পারবেন।

তিনি জানান, নিজের ফেসবুক পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় নিয়মিতভাবে এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। তার মতে, বরাদ্দের বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা “খুবই দুঃখজনক”।