ঘাটে ঈদযাত্রার চাপ ক্রমশ বাড়ছে

বৃষ্টি, যানজট ও ফেরি সংকটে আরিচা-পাটুরিয়ায় নাকাল হাজারো যাত্রী।
টুইট প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার আগের দিন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে তীব্র যানজট ও দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। টানা বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস, ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বুধবার দিনভর অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় পুরো ঘাট এলাকায়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে আটকে পড়ে শত শত বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল।
সরেজমিনে দেখা যায়, আরিচা ফেরিঘাট থেকে বোয়ালী ডাক্তারখানা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এবং পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে আরসিএল মোড় পর্যন্ত আরও প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘাট এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে না পেরে কার্যত ভেঙে পড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছে।
সকালের বৃষ্টিতে ভিজে বহু যাত্রীকে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে ঘাটে পৌঁছাতে হয়েছে। পরে তারা ফেরি, লঞ্চ ও দ্রুতগতির নৌযানে নদী পার হন। শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড়ো আবহাওয়া, ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চলাচলকারী রো-রো ফেরি ‘শাহ আলী’ মঙ্গলবার গভীর রাতে যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত সেটি মেরামতে থাকায় পাঁচটির মধ্যে চারটি ফেরি দিয়ে পারাপার চালানো হচ্ছিল। পরে যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে পাটুরিয়া থেকে আরও একটি ফেরি ওই রুটে যুক্ত করা হয়।
ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশুবাহী ও পচনশীল পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঘাট এলাকায় পাথর ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক ট্রাক ফেরি থেকে নামার সময় ঢালু সড়কে আটকে গিয়ে ফেরি ওঠানামায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এতে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে যমুনা সেতু এলাকায় দীর্ঘ যানজট থাকায় উত্তরাঞ্চলের বহু যানবাহন বিকল্প হিসেবে আরিচা-কাজিরহাট রুট ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পাবনা ও ঈশ্বরদীগামী বাসের চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল পর্যন্ত আরিচা ঘাটে প্রায় আড়াইশ’ এবং পাটুরিয়া এলাকায় প্রায় তিনশ’ যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় ছিল। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৪টি এবং আরিচা-কাজিরহাট রুটে ৫টি ফেরি চলাচল করছে।
এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন যাত্রী জানান, গাবতলী থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া নিয়ে তাদের উথলী মোড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে হেঁটে ঘাট এলাকায় পৌঁছাতে হয়েছে।
পাবনাগামী যাত্রী আব্দুস সালাম বলেন, “পরিবার নিয়ে সকাল থেকে ঘাটে আছি। তিন ঘণ্টা পার হলেও ফেরিতে উঠতে পারিনি। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
ট্রাকচালক কামাল হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছি। এখনও নদী পার হতে পারিনি। এভাবে থাকলে ঈদের আগে বাড়ি পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে।”
বিআইডব্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুস সালাম বলেন, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।






