ফেইস বোনাসে অচলাবস্থা

ঈদের আগে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে বড়পুকুরিয়ায় শ্রমিকদের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি।

টুইট প্রতিবেদক: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড–এর শ্রমিক-কর্মচারীরা বকেয়া ‘কোল ফেইস বোনাস’ পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খনির প্রশাসনিক ভবনের করিডরে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। ঈদুল আজহার আগে বোনাস না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, খনির ভূগর্ভস্থ ১৪০৬ নম্বর কোল ফেইস থেকে জানুয়ারিতে কয়লা উত্তোলন শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা এখনও বোনাস পাননি। অথচ ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ বোনাস প্রদান করা হয়ে আসছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আন্দোলন চলাকালে বক্তব্য দেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা ফরিজার রহমান তপু, সভাপতি রায়হানুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম। তারা বলেন, গত ২০ মে অনুষ্ঠিত পেট্রোবাংলা–র বোর্ড সভায় খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোল ফেইস বোনাস অনুমোদন দেওয়া হলেও শ্রমিকদের বোনাস ঝুলে রয়েছে। ঈদের আগে এ অর্থ পরিশোধ না হলে খনির গেটেই ঈদের জামাত আদায়সহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

পরে শ্রমিক নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতারা রোববারের মধ্যে বোনাস পরিশোধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে এমডি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই রোববারের মধ্যেই বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে।

খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক জানান, কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এবার বোনাস প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসির অধীনে খনিতে ১ হাজার ৫৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রত্যেককে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা হারে বোনাস দিতে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

খনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে শুধুমাত্র বোর্ড সভার অনুমোদনেই ফেইস বোনাস দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম।

শ্রমিকদের দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে উৎপাদন কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

ঈদ সামনে রেখে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি স্থানীয় শ্রমিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।