ঈদযাত্রায় স্বস্তির বার্তা

শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম, প্রস্তুত রেলওয়ের।

টুইট প্রতিবেদক:পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

এবারের ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলসচিব জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন ট্রেনের চলাচল, সময়সূচি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতর–এ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক ছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার মতো দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এর বাইরে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা

রেলওয়ের মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামীকাল থেকে তা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারির কথাও জানান রেলসচিব। তিনি বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত একযোগে দায়িত্ব পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন থাকবে।

তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, টিকিট ছাড়া প্রবেশকারীরাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এবারও যাত্রীচাপ সামাল দিতে ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাত্রার টিকিট রাখা হয়েছে। রেলসচিব বলেন, ঈদের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন, ফলে রেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। সেই চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মহানগর পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রেলসচিব আরও বলেন, যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।