৫ আগস্টের বিতাড়িতদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ: প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবাণী

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। সরকার অরাজকতা রোধে কোনো ছাড় দেবে না।
টুইট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টে যাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে এখন অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে।
শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে প্রথমেই তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইনকে আইনের মতো চলতে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পত্র-পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ নিয়ে দেখেন- ৫ আগস্টে দেশের মানুষ যাদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সঙ্গে এরা তলে তলে খাতির শুরু করেছে। যেভাবে ’৮৬-’৯৬ সালে আঁতাত করেছিল। দেশের জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “যারা বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি যেমন কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়ে কথা বলছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, কাজে ব্যবহার করতে হবে। দক্ষ শ্রমিকের হাত তৈরি করতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে নতুন ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। তাহলেই আমরা এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ক্ষমতাসীনদের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ এবং উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া দুটি বিষয়ই তিনি একসঙ্গে তুলে ধরেছেন।
বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার অরাজকতা রোধে কোনো ছাড় দেবে না। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগের মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষের জীবিকা ও উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত হয়, তা দেখার বিষয়।
সংবাদসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর লাইভ বক্তব্য ও দৈনিক ইত্তেফাক






