জুতা চুরিতে তোলপাড় কুমিল্লা

জুমার নামাজ শেষে পুলিশ সুপারের জুতা উধাও, চার ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার; নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
টুইট ডেস্ক:কুমিল্লায় জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেন জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে নামাজ শেষে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, জুতার তাক থেকে তাঁর জুতা চুরি হয়ে গেছে। ঘটনাটি শুক্রবার দুপুরে ঘটে এবং পরে চার ঘণ্টার মধ্যেই জুতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ লাইন্স এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। ফুটেজে দেখা যায়, টি-শার্টের ওপর ‘খানদানি’ লেখা এক ব্যক্তি জুতাজোড়া পরে হেঁটে চলে যাচ্ছেন।
পুলিশ লাইন্সে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জুতার তাকের ওপর রাখা ছিল পুলিশ সুপারের জুতা। নামাজ শেষে সেটি না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে জুতাজোড়া উদ্ধার করা হয়।
তবে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একইভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে কৌতুকের দৃষ্টিতে দেখলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, এটি কুমিল্লার ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
সম্প্রতি কুমিল্লা নগরে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার নগরের ব্যস্ততম ঠাকুরপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশ সুপারের জুতা চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যেখানে পুলিশ লাইন্স মসজিদের মতো নিরাপদ এলাকায় দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার জুতা চুরি হতে পারে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সহজেই অনুমান করা যায়।






