সিলেটে হামের ভয়াবহতা

একদিনে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগজুড়ে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
শুক্রবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হাসপাতালে সন্দেহভাজন রোগীর চাপ এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পাঁচ শিশু।
মৃতদের মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাইসা, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছয় বছর বয়সী আলী আফসান, দিরাই উপজেলার ১০ মাস বয়সী মুসলিমা, সিলেট সদর উপজেলার এক বছর দুই মাস বয়সী মো. রাশেদ আহমদ এবং চার বছর বয়সী শিশু শামীমা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষাগারে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও গত এক দিনে সন্দেহভাজন ৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি আছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ মে পর্যন্ত বিভাগে মোট ১৫৮ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বাধিক ৮৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া সিলেট জেলায় ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের অপুষ্টি এবং দেরিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
তারা অভিভাবকদের শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।






