পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীদের কণ্ঠে নতুন বিধিনিষেধ?

সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশে কড়া নির্দেশিকা, উঠছে বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
টুইট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের জারি করা এক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি সরকারি কর্মীদের মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত করতে পারে।
গত ১৯ মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠান, আলোচনা কিংবা মিডিয়াভিত্তিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি আয়োজনে যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসসহ রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের পাশাপাশি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরাও এই নীতিমালার আওতায় থাকবেন।
নতুন বিধিতে সরকারি নথি বা প্রশাসনিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা সংবাদপত্রে লেখালেখি, সম্পাদনা কিংবা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকেও সরকারি কর্মীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন কিংবা মুদ্রিত গণমাধ্যম—যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির বিভিন্ন ধারার আলোকে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা যেমন আছে, তেমনি মতপ্রকাশের পরিসর নিয়েও ভবিষ্যতে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।






